Friday, October 30, 2020

Oggy কার্টুনের সত্য ঘটনা। Real Story of Oggy cartoon

Oggy কার্টুনের সত্য ঘটনা। Real Story of Oggy cartoon


হ্যালো বন্ধুরা।

আশা করি সকলে ভালো আছেন।


আজকে আমরা খুবই ইন্টারেস্টিং একটি কার্টুনের সত্য ঘটনা সম্পর্কে জানব।


আমরা সকলেই Oggy and the cockroaches কার্টুনের নাম শুনেছি।

খুবই মজার একটি কার্টুন ছিল এটি।


কিন্তু আমরা অনেকেই হয়ত জানি না এই কার্টুনটি আসলে সত্যি ঘটনার উপর নির্মিত।


হ্যা ঠিকই শুনেছেন। 

ওগি কার্টুনের একটি রিয়েল স্টোরি রয়েছে।


তো চলুন জানি কি সেই ঘটনা।


ঘটনাটি এরকম ১৯০০ সালের দিকে ফ্রান্সের একটি ছেলে নাম রাফেল স্কুল শেষে বাড়ির দিকে ফিরছিল।

রাফেল অনেক ধণী পরিবারের ছেলে ছিল।

হঠাৎ রাফেল রাস্তার পাশে একটি বক্স দেখতে পায়।

সে বক্সটির কাছে গিয়ে দেখে সেটার ভিতর রয়েছে দুটি বিড়াল ছানা।

ছানাদুটি খুবই অদ্ভুত ছিল।

এদের একটি ছিল গাঢ় নীল বর্ণের এবং আরেকটি ছিল গাঢ় সবুজ বর্ণের।

বিড়ালের বাচ্চাদুটি খাবারের জন্য মেও মেও করছিল।

সেখানে অনেক লোক ছিল কিন্তু কেউ এদের সাহায্য করেনি।

রাফেলের খুব মায়া হয় এবং সে বিড়াল ছানাদুটিকে তার বাসায় নিয়ে আসে।

রাফেলের মা বাবা বিড়াল ছানা দুটিকে বাসায় রাখতে দিতে চায় নি।

তবে রাফেলের জোরাজোরিতে তারা রাখতে দেয়।


এরপর রাফেল নীল রংয়ের বিড়ালটির নাম রাখে ওগী এবং সবুজটির নাম রাখে জ্যাক।

বিড়াল ছানা দুটি একে অপরের থেকে অনেক আলাদা ছিল।

যেমম অগি ছিল অলস। শুধু ঘুমাত। 

আরামে থাকত সবসময়।

আর জ্যাক ছিল খুবই উগ্র। 

জ্যাক সারাদিন বাইরে বাইরে ঘুরত আর অন্য বিড়ালদের সাথে মারামারি করত।

রাফেলদের বাসায় পাশের বাসাতেই ছিল আরেকটি কুকুর। যেটির সাথে অগির খুব ঝগড়া লাগত। এবং অগির ক্ষেত্রে সবচেয়ে অদ্ভুত একটি বিষয় ছিল অগী বিড়াল হওয়া সত্ত্বেও ইদুরকে খুবই ভয় পেত।

এবং তেলােপোকাকে খুবই ঘৃনা করত। সে সবসময় এদের পিছু নিত।

এটা দেখে রাফেল খুুশি হয়। সে বাজারে গিয়ে কয়েকটি তেলাপোকা খেলনা কিনে নিয়ে আসে।

রাফেলের সেরকম কোন বন্ধু ছিল না।

সে সবসময় অগির সাথেই থাকত।

আর অগি ওই খেলনা তেলাপোকাগুলোর সাথে মারামারি করত।

এসব দেখে রাফেল খুবই মজা পেত।

এগুলা দেখতে দেখতে রাফেল নিজের মনের মধ্যে কিছু গল্প লিখে ফেলেছিল। অগি কি করত, কিভাবে মজা নিত এসব কাহিনি সে ডায়রিতে লিখে রাখত।

রাফেল তাদের মা বাবাকেও এ গল্পগুলে শোনাত।

তার মা-বাবা ও এ গল্পগুলো শুনত আর হাসত।

কারণ গল্পগুলো খুবই ফানি ছিল।

তো এভাবেই চলছিল রাফেলের সুখের দিনগুলো।


কিন্তু রাফেল জানত তার জীবনে সামনে একটি অন্ধকার রয়েছে।

প্রতিদিনের মত রাফেল ওগির সাথে খেলাধুলা করতেছিল।

খেলতে খেলতে রাফেল ভুল করে তেলাপেকার খেলনাগুলোকে রাস্তার দিকে ছুড়ে মারে।

ওগি তেলাপেকাগুলেকে ধরতে রাস্তায় চলে যায়।

রাস্তা দিয়ে ওইসমসয় আসছিল একটি বড় ট্রাক।

ট্রাইভার অগিকে খেয়াল করেনা। অগির উপর দিয়েই চালিয়ে দেয়।

এরপর ওগি ওইখানেই মারা যায়।

এ ঘটনার পর রাফেল খুবই কষ্ট পায় এবং মর্মাহত হয়ে পড়ে।

এমনকি সে অসুস্থ ও হয়ে যায়।

রাফেলকে অনেক ডাক্তার দেখানো হয়, অনেক খেলনা কিনে দেওয়া হয়। এমনকি নতুন বিড়ালও এনে দেওয়া হয়।

কিন্তু রাফেলের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না।

কারণ রাফেল কখনো ওগিকে ভুলতে পারে নি।

রাফেল নিজেকে অগির মৃত্যুর জন্য দায়ি মনে করত।

তো বন্ধুরা রাফেল এ মানসিক কষ্ট আর নিতে পারছিল না।

তাই সে একদিন রাস্তার মাঝে চলে গিয়ে ট্রাকের নিচে প্রাণ দিয়ে দেয়।

এবং এ গল্পটি ফ্রান্সে অনেক পরিচিত হয়ে যায়।

অনেক মিডিয়ায় সংবাদটি প্রকাশ করা হয়।

একটি বিড়ালের জন্য একটি ছেলের আত্মহত্যা। 

অনেক নিউজ পেপারের লোকেরা তার মা-বাবার কাছে আসত।

রাফেলের মা-বাবা রাফেলের বলা গল্পগুলো তাদের শোনাত।

এরপর এ গল্পটি ফ্রান্সে আরো বিখ্যাত হতে শুরু করে।

গল্পটি এত বিখ্যাত হওয়ার জন্য জিলাম এবং অনান্য কোম্পানিরা এর উপর কার্টুন তৈরী করে।

এবং তারা সফলও হয়।

কারণ অগি তখন ফ্রান্সের সকল শিশুদের পছন্দের জিনিস ছিল।


এবং আস্তে আস্তে এভাবেই অগি এন্ড দা ককরোসেস এর গল্পটি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যায়।


এ গল্পটির ১০০% যে সত্য তা কিন্তু না।

এ গল্পটির সত্যতা ৫০/৫০


যাই হোক।

আমার কাছেই এ গল্পটিই সবচেয়ে ভালো মনে হয়েছে।


আশা করি আপনাদের কাছেও ভালো লেগেছে।


এরকম আরো ইন্টারেস্টিং টপিক সম্পর্কে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। 


ধন্যবাদ।


Rea es:
শেয়ার করুন

0 coment rios: