Saturday, October 10, 2020

সাবওয়ে সার্ফার গেমের ঘটনা কি সত্য?

সাবওয়ে সার্ফার গেমের ঘটনা কি সত্য?

হ্যালো বন্ধুরা, আশা করি সকলে ভালো আছেন।



আজকে আমরা আরো একটি গেমের সত্য ঘটনা সম্পর্কে আলোচনা করব।

আমাদের মধ্যে এমন কাউকে খুজে পাওয়া যাবে না যারা এই গেমটি খেলে নি।

এটি খুবই জনপ্রিয় একটি গেম ছিল।


তো চলুন শুরু করা যাক।


সাবওয়ে সার্ফারঃ সাবওয়ে সার্ফার হলে একটি রানার গেম যা কিলো এবং সাইবো ডেভেলপমেন্ট করেছিল। এটি মূলত একটি এন্ডলেস গেম।

এর কোন শেষ নেই।

গেমটি এন্ড্রয়েড, আইওএস, কিন্ডল, উইন্ডোজ ভার্সনেও রয়েছে।


ইতিহাসঃ 

সবাওয়ে সার্ফার গেমটি রিলিজ হওয়ার পর ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

এরপর আমেরিকার একটি টিভি চ্যানেলে গেমটির তৈরীকারক জ্যাকব মূলার ও সিমন মূলারকে ডাকা হয় এবং তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় এ গেম তৈরী পিছনের কাহিনি। 

এরপর এই দুই ভাই বলতে শুরু করে তাদের করা পরিশ্রম ও ত্যাগ ও সফলতার কাহিনি। 

লেখাপড়া শেষ করার পর কিলো নামে তারা একটি কোম্পানি চালু করে।

কোম্পানিটি গেম তৈরী করত।

তারা ২০০০-২০১২ সাল পর্যন্ত ৫০ টি গেম তৈরী করে। কিন্তু তারা তেমন কোন সফলতা পায় না।

ফলে তারা দিন দিন হতাশ হয়ে পড়ে আর সাথে সাথে বাড়তে থাকে ঋণের বোঝা।

এরপর এই ভাইদের মাথায় একটি আইডিয়া আসে।

তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনার উপর তারা গেম তৈরী করার সিদ্ধান্ত নেয়।

কিন্তু তাদের হাতে টাকা ছিল না। তাই তারা বাড়ি, জমিজমা সব বিক্রি করে আরো কিছু টাকা ধার করে গেমটির প্রকাশে কাজ শুরু করে।

এরপর ২০১২ সালে তারা গেমটি রিলিজ করে।


এ গেমটি বের হওয়ার পর এটি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এই দুইভাই গেমটি থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ইনকাম করে। 


প্রেক্ষাপটঃ

টিভি চ্যানেলে ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় যখন তাদের জিঙ্গাসা করা হয় তাদের এ গেমের কাহিনি কি আসল?

এ গেম তৈরীর পিছনে তারা কি কোন বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রানিত হয়েছিল?


তখন এ দুই খুবই ইমোশনাল হয়ে পড়ে।

তারা পুরে ঘটনা বলতে শুরু করে।


এই দুইভাই যখন ছোট ছিল তখন তারা আমেরিকার এটলান্টিক শহরে একটি বস্তিতে বসবাস করত। 

এবং এই বস্তির পেছনেই ছিল একটি রেল স্টেশন।

এই দুই ভাই ও তার বন্ধুরা স্কুল থেকে পালিয়ে বসত এবং এখানে খেলাধুলা করত।

সেসময় আমেরিকার ওয়াল গ্রিফ্টিং আর্ট বা দেয়ালে অংকন করা খুবই জনপ্রিয় ছিল।

এই দুইভাই ও তার বন্ধুরা ওই রেল স্টেশনে থাকা রেলগুলোর উপর স্প্রে দিয়ে ছবি আকত।


ট্রেন স্টেশনের দারোয়ান যখন এসব দেখত তখন তাদের ধড়তে ধাওয়া করত। ট্রেন স্টেশনের দারোয়ান আংকেলগুলো খুবই ভালো ছিল, যদি কখনো কাউকে ধরতে পারত তাহলে ওনার এদের ধরে নিয়ে স্কুলে রেখে আসত।


এ বিষয়টি ওই জায়গায় একটি খেলার মত হয়ে গিয়েছিল।

যারা ওই দারোয়ানদের হাত থেকে বেচে যেতে পারত, ধরা খেত না তারা হত বিজয়ী, আর যারা ধরা খেত তারা হত লুজার।😀


এভাবেই একদিন ওই দুইভাই ট্রেনে ছবি আকতে ছিল। ট্রেনের দারোয়ান আংকেল এটি দেখতে পায় এবং তাদের ধাওয়া করে।

এই দুইভাই দরোয়ানকে দেখতে পেয়ে রেলওয়ে ট্র্যাকে দৌড়াতে থাকে।

দারোয়ান তাদের পিছন পিছন আসতে থাকে।

এরপর ওই রেলওয়ে ট্র্যাক দিয়ে একটি রেল আসতে শুরু করে।

এই দুইভাই যখন রেলের সাথে ধাক্কা খাবে এমন সময় ওই দারোয়ান এই দুইভাইকে বাচিয়ে দেয়।

কিন্তু এদের বাঁচানোর সময় দারোয়ান আংকেলটি রেলগাড়ীতে ধাক্কা খায় এবং মারা যায়।


এই ঘটনা এই দুইভাইয়ের মনে খুবই আঘাত হানে।

এর কিছুদিন পর তারা এ শহর ত্যাগ করে চলে যায়।

এরপর ২০১২ সালে এ গল্পটির উপর ভিত্তি করে সাবওয়ে সার্ফার নামে একটি গেম তৈরী করে।


এ গল্পটি ওই ইন্টারভিউয়ে বলার সময় ওই দুইভাই কান্না করতে থাকে।

এরকম একটি সুন্দর গেমের পিছনেও এত কঠিন,  দূঃখজনক কাহিনি থাকতে পারে তা ভাবাও মুশকিল।


বন্ধুরা যেকোন মুভি, নাটক, গেম তৈরীর পিছনে আগে আইডিয়া লাগে। এই আইডিয়া আমরা আমাদের বাস্তব জিবন থেকেই গ্রহণ করি।


সাবওয়ে সার্ফার একটি সফল গেম।

এটি ১০০ মিলিয়নের উপরে ডাউনলোড হয়েছে।


একসময় এটি আমার খুবই পছন্দের একটি গেম ছিল।


আশা করি আজকের লেখাটি সবার ভালো লেগেছে।

এরকম আরো ইন্টারেস্টিং  টপিক সম্পর্কে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। 


ধন্যবাদ।


Rea es:
শেয়ার করুন

0 coment rios: