Thursday, October 8, 2020

যে গেমগুলোর শেষ দেখার সৌভাগ্য খুব মানুষের হয়েছে। যে গেমের শেষ নাই

Endless Game


গেমিং হলো বর্তমান যুগের বিনোদনের অন্যতম একটি মাধ্যম। এ যুগের ছেলেমেয়েরা গেম খেলতে বসলে কখন যে সময় চলে যায় টেরই পায় না। 

তবে এমন অনেক গেম রয়েছে যেগুলোর শেষ খুজে পেয়েছেন খুবই কম মানুষই।

বেশির ভাগ মানুষই এ গেমগুলোর শেষ দেখতে পারেন নি।

তো আজকে আমরা কথা বলবো এমন কিছু গেম নিয়ে যেগুলোর শেষ দেখা সম্ভব হয় নি।


চলুন শুরু করা যাক।


Flappy Bird: এ গেমটি আসলে একটি ভিয়েতবামি গেম। ভিয়েতনামের একজন গেম ডেভেলপার গেমটি বানিয়েছিল।

জং ইউ এন নামের একজন গেম ডিজাইনার এবং ডেভেলপার গেমটি বানিয়েছিল। 

একটা সময় এই অতিসাধারণ গেমটি পুরে দুনিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠে। 

এবং সারাবিশ্বের গেমারদের পুরো পাগল করে দিয়েছিল এ গেমটি। 

গেমটির স্রষ্টা শুরুতেই গেমটির নাম ফ্ল্যাপ ফ্ল্যাপ রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু ওই নামে আগেই অন্য একজন গেম বানিয়ে ফেলেছিল।

তাই সে গেমটির নাম রাখে ফ্ল্যাপি বার্ড।

গেমটি বেনাতে ওনার মাত্র কিছুদিন সময় লেগেছিল। 

কিন্তু গেমটি যে বিশ্বজুড়ে এত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেন নাই।

এটি এখন পর্যন্ত গেমটি বিশ্বজুড়ে ৫০+ মিলিয়ন ডাউনলোড হয়েছে।

যখন গেমটি ভাইরাল হয়েছিল তখন সব সোশাল মিডিয়ায় এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

গেমটির এটি বিশেষ দিক হলো এটি আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নিবে।

মানুষের ধৈর্যের মাত্রা পরীক্ষা করার জন্যই গেমটি বানানো হয়েছিল।

মানুষ বার বার মারা গেলেও জেদ করে গেমটি ছেড়ে যায় না।

অনেক ইউজার গেমটি শেষ করার জন্য রাতদিন, মাসব্যাপি কঠোর পরিশ্রম করেছে। 

এর শেষে কি আছে তা জানার জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছিল।

তবে যারা এটি শেষ করতে পেরেছিল তাদের শেষ দৃশ্যটা অনেকটাই হতভম্ব করেছিল।

যখন গেমের ৯৯৯ স্কোর পূর্ণ হয়ে যায় তখন ঘটনা আরেক ঘটনা।

৯৯৯ স্কোর হওয়ার পর ফ্ল্যাপি বার্ডের সামনে সুপার মারিও এসে উদয় হয়।



আর গেমটি ওখানেই শেষ হয়ে যায়।

তাহলে একবার ভাবুন ওই বেচারার কথা যে এতদিন ধরে কষ্ট করছিল গেমটি শেষ করার জন্য 😂

বিষয়টা তার কাছে কেমন লেগেছিল ভাবতে পারছেন?😶


Pek Man: আরো একটি খুবই জনপ্রিয় গেম হলো প্যাক ম্যান।

এটি আসলে একটি জাপানিজ গেম।

জাপানিজ গেম কোম্পানি নেম কো ১৯৮০ সালে পাবলিশ করে।

এটি খুবই সহজ একটি গেম।

যেখানে একজন প্লেয়ারকে লেভেলে থাকা সব ডটস খেতে হয়।

আবার প্যাক ম্যানকে মারা জন্য সেখানে আছে এনিমি বা আমরা বাঙালিরা নাম দিয়েছিলাম ভূত ম্যান😂

প্যাক ম্যানকে আবার এদের থেকে বেচে থাকতে হয়।

গেমের প্রতিটা লেভেল পার হওয়ার সাথে এটি আরো কঠিন হয়।

প্রায় সকল প্লেয়ারই গেমটি সম্পর্কে বলে থাকে গেমটি ৭০-৮০ লেভেল পর্যন্ত একটু সহজই হয়ে থাকে।

কিন্তু এরপর ভূতেরা খুব দ্রুত মুভ করে।

অনেক গ্যামারই মনে করেন প্যাক ম্যানে ২৫৫ টি লেভেল রয়েছে।

কিন্তু একজন এক্সপার্ট এ অসম্ভব কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছিল। 

তিনি গেমের ২৫৫ লেভেল পার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।


আর সে লেভেল ২৫৬ এ তে পৌছে গিয়েছিল। 

কিন্তু দূঃখের কথা হলো যখন সে ২৫৬ লেভেলে পেছায় তখন সে দেখতে পায় সেখানে কিছু প্রোগ্রামিং মিসটেক রয়েছে।

কিন্তু বিলি নামের এই ব্যাক্তি এই লেভেলটিও পার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। 

আর যখম সে ২৫৬ পার করে তখন সে আবার সে লেভেল ১ এ চলে আসে।

কিন্তু এবার লেভেল ১ এর ভূতগুলে অনেক দ্রুত মুভ করছিল।

সে আবার লেভেলগুলে শেষ করে। 

যখন বিলি আবার সব লেভেল শেষ করে ফেলে তখন হঠাৎ করে গেমের স্ক্রীণ কালে হয়ে যায় এবং গেমটি আবার নতুন করে শুরু করতে বলে।



আসলে কেউ এরকম কোন এন্ডিং দেখতে চায় নি😂

Subway Surfers: 

সাবওয়ে সারফারস ২০১২ সালে সাইবো আর কিলো নামের দুটি কোম্পানি পাবলিশ করেছিল।

পাবলিশ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এটি ভাইরাল হয়ে যায়।

গেমটি একদম সহজ তাই যে কেউ গেমটি খেলে ঘন্টার পর ঘন্টা পার দিতে পারে।

গেমটিতে একটি প্লেয়ার থাকে যে পুলিশের কাছ থেকে পালাতে থাকে এবং তাকে কয়েন কালেক্ট করতে হয়।

পালাতে পালাতে সামনে আসা বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করতে হয়।

সবার ত মনে করে সাবওয়ে সারফারস গেমের কোন শেষ নেই।

তবে যদি টেকনিকালি দেখেন তাহলে বুঝবেন এটিরও শেষ আছে।

কারণ প্রতিটি গেমেই একটি লিমিটেড মেমোরি থাকে।

যদিও প্রতিটি ডেভেলপার বলে থাকে তাদের গেম এন্ডলেস।

কিন্তু বাস্তবতা হলো মেমোরির লিমিটেশনের কারনে কোন গেমই এন্ডলেস হতে পারে না।

যদি কোন গেম কখনো শেষ না হয় বা কেউ যদি একটানা খেলতে থাকে তাহলে একটা সময় আসবে যখন সে আর গেমটি খেলতে পারবে না।

কারণ অ্যাপটি কখনো আনলিমিটেড মেমোরি ধরে রাখতে পারবে না।

যার ফলে সার্ভার ক্রাশ করবে।

তাই সাবওয়ে সারফারস ও ক্রাশ করবে।


তাই বলাই যায় এটিরও শেষ রয়েছে। 


Duck Hunt:

এটি এমন একটি গেম যা ৯০ এর দশকের ছেলেমেয়েরাই বেশি খেলেছে।

গেমটি তখন খুবই জনপ্রিয় ছিল।

গেমটির মোট ৩৮+ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল।

এ গেমে প্লেয়ারের কাছে একটি বন্দুক থাকে।যেখানে সে স্কিনে ওড়ে যাওয়া পাখির উপর নিশানা করে।

পাখিগুলোকে একটি কুকুর ঘাসের ভিতর থেকে তাড়িয়ে উড়িয়ে দেয়।

যদি নিশানা ঠিকঠাক থাকে তখন কুকুরটা মৃত হাসগুলোকে ঘাসের মধ্যে থেকে উঠিয়ে দেখিয়ে থাকে।

যখন নিশানা মিস হয়ে যায় তখন কুকুরটি ঘাস থেকে উঠে হেসে টিটকেরি মারতে থাকে।

গেমটি খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল এবং এর ডেভেলপার অনেক অর্থ কামিয়েছি এর মাধ্যমে। 

এত জনপ্রিয় হলে ৯৯% মানুষই এর এন্ডিং জানে না। 

সত্যি বলতে কি এর এন্ডিং ও মানুষকে হতাশ করেছিল।

যারা গেমটির ৯৯ লেভেল পার করতে পেরেছিল তারা আকাশ থেকে অনেকগুলো হাস পড়তে দেখতে পায়।

যেগুলোর উপর নিশানা লাগানো অসম্ভব হয়ে যায়।

যখন হাসগুলো উড়ে চলে যায় তখন কুকুরটা হাসতে হাসতে টিটকেরী মারতে থাকে।😂

T-Rex: এটি খুবই আলাদা একটি গেম।



আপনি যদি ক্রোম বাউজার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনি এটিকে চিনবেন।

ক্রোম বাউজার দিয়ে নেট ব্রাউজিং করতে গেলে হঠাৎ যদি নেট চলে যায় তাহলে ছোট্ট একটা ডাউনোসরের ছবি আসে এবং নিচে কিছু কারণ লিখা থাকে। 

এখন থেকেই মূলত গেমটি শুরু।

এখন আপনি যদি ওই ডাইনোসরের উপর ক্লিক করেন তাহলে গেমটি শুরু হয়ে যাবে। 

আর পিসিতে গেম শুরু করতে হলে কি বোর্ডের স্পেস বাটনে চাপ দিতে হয়।

গেমটি খেলা খুবই সহজ।

ক্রোমের ডেভেলপারদের কথা হচ্ছে যেন তাদের ইউজাররা কোন ইন্টারনেট ছাড়াই গেমটি খেলতে পারে।

গেমটি ২০১৮ সালে ২৭০ মিলিয়ন মানুষ খেলেছিল।

গেমটি ম্যানেজ করতে ক্রোমের ডেভেলপারদের একটি টিম বানাতে হয়েছিল।

গেমটি দেখে এন্ডলেস মনে হলেও

এ গেমটিরও একটি এন্ডিং আছে।

তবে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে 

এর এন্ডিং দেখার জন্য আমরা কেউই বেচে থাকবো না।

গেমটির ডেভেলপারদের কথা হচ্ছে গেমটি অনেক কঠিনকাভে ডিজাইন করা হয়েছে। 

তাদের মতে গেমটি শেষ করতে ১ কোটি ৭০ লক্ষ বছর লেগে যাবে।😂



কি বলেন তাহলে এন্ডিং দেখতে চান নাকি😂


আশা করি আজকের পোস্টটি ভালো লেগেছে। 

এরকরম আরো ইন্টারেস্টিং বিষয় সম্পর্কে জানতে নিয়মিত ভিসিট করুন।


ধন্যবাদ


Rea es:
শেয়ার করুন

0 coment rios: